মেয়েদের প্রয়োজন এবং দাবিগুলি খুব বেশি বড় নয়। একজন স্ত্রী হিসাবে সে হয়ত আপনার কাছ থেকে খুবই সামান্য জিনিস দাবি করে যেমন আপনার সময়, একটু হাসি এবং কখনো আপনার সঙ্গ।অর্থ, সুখ এবং সম্মান আমাদের জীবনের ৩টি গুরত্তপুর্ন অংশ। একটি ব্যস্ত দিন শেষে সবাই তাদের পরিবারের সাথে একটি ভাল সময় কাটাতে চায় তাই একটি সুখী জীবন পাওয়ার স্বাদ কেওই উপেক্ষা করতে পারেন না।

আপনার স্ত্রী তার পুরো জীবন আপনার পরিবারের জন্যই ত্যাগ করে। তিনি যদি একজন গৃহিণী হন তবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা তৈরির কাজে লেগে পরেন, বাচ্চাদের যত্ন নেন, বাড়ীঘর পরিষ্কার করেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য সারাদিনের রান্না করেন এবং পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে যা যা দরকার সবই করেন। যদি আপনার স্ত্রী একজন চাকরিজীবী হন তাহলে একই কাজগুলো তাকে করতে হয় সাথে থাকে চাকরির অতিরিক্ত লোড। এটা সত্য যে আপনি আপনার পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন কিন্তু আপনার স্ত্রী আপনার সমস্ত প্রচেষ্টাকে কার্যকরী করে তোলে। সুতরাং একটি সুখী সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে আপনি আপনার সারা জীবন সুখে শান্তিতে কাটাতে পারেন।

  • অন্যদের সাথে তুলনা করবেন না– একজন মানুষ হিসেবে আপনার স্ত্রী যেমন তাকে তেমনি থাকতে দিন। অন্যর বউ এটা পারে ওটা পারে অথবা কত সুন্দর এসব বলে নিজের ব্যাক্তিত্ত্ব নষ্ট করবার কি দরকার! এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই সুন্দর। সৃষ্টিকর্তা কাওকেই অসুন্দর ভাবে সৃষ্টি করেন নাই শুধু দরকার সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি।
  • সম্মান দিন- আপনার  স্ত্রীকে নিচু করা মানে আপনারই সম্মানহানি হওয়া। দুজনই দুজনকে সম্মান করুন। আপনি তাকে সম্মান করলে তার ফল আপনিই পাবেন এবং আপনার সন্তানেরাও সেভাবেই গরে উঠবে। স্ত্রীর গায়ে হাত তুলে বা যেখানে সেখানে তাকে অপমান করে আপনি তার কাছে বড় হওয়া তো দুরের কথা সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষে পরিনত হন  স্ত্রী ও সমাজের চোখে।
  • নিজেদের সময় দিন- রাতে বাসায় এসে টিভির রিমোট নিয়ে অথবা অফিসের কাজ নিয়েই অনেকে বসে পরেন। অথচ আপনার স্ত্রী সারাদিন আপনার পথ চেয়েই থাকে আর তিনি চাকরিজীবী হলে সেও আপনার সাথে হয়ত সারা দিনের জমে থাকা কথা শেয়ার করতে চান তাই সারাদিনের ক্লান্তি শেষেকিছুক্ষণ একটু নিজেরা কথা বলুন।
  • সারপ্রাইজ রাখুন- সারপ্রাইজ পেতে কে না পছন্দ করে আর তা যখন হয় কোন প্রিয় মানুষের কাছ থেকে তবে সেটা অমূল্য। তাই মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ রাখুন আপনার সহধর্মিণীর জন্য। বিশেষ দিবস গুলোতে বিশেষ কিছু করুন। তার প্রিয় কোন জিনিস কিনে দিতে পারেন অথবা প্রিয় কোন জায়গা থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।
  • তার বিশ্বাস ধরে রাখুন- কথায় আছে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। বিশ্বাস ভঙ্গ হয় এমন কিছু কখনই করবেন না। যেকোনো সংসার শুধুমাত্র এই বিশ্বাসের উপরেই টিকে থাকে।
  • সমস্যা তৈরি নয় সমাধান করুন- রাগ দেখিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় নাবরং সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই সমস্যা বারানোর বদলে সমাধান করুন। নিজেরা নিজেদের বেশি বেশি সময় দিন আর নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুন। দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হলে অন্তত একজন মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন। এই সম্পর্কের মাঝে ইগো ধরে রাখলে দূরত্ব তৈরি হতে থাকবে।
  • মাঝে মাঝে বাহিরে খেতে যান এবং শপিং করুন- কেনাকাটা সকলেই পছন্দ করেন আর শপিংমেয়েদের কাছে খুবই প্রিয় তাই মাঝে মাঝে শপিং এ যান আপনার স্ত্রীকে নিয়ে। আর প্রতিদিন একই রান্নাবান্নার কাজ করতে আর বাসার খাবার কারোরই ভালো লাগে না তাই মাঝে মাঝে রিফ্রেশ হবার জন্য বাহিরে খেয়ে আসুন।
  • ছুটির দিনে বাইরে ভ্রমণ করুন- ছুটির দিনগুলোতে যদি কোন গুরত্ত্বপুর্ন কাজ না থাকে তবে ঘরে বসে অবসর সময় না কাটিয়ে বাহির থেকে ঘুরে আসুন।
  • ভাল রান্নার জন্য প্রশংসা করুন- হোটেল অথবা রেস্টুরেন্টে গেলে হয়ত অনেক মজার স্বাদের খাবার মিলে কিন্তু বাসার খাবার সে তো সব সময়ই অমৃত। তবে খাবার বাসায় বানানো অনেক আরামের কিছু না বরং সবচেয়ে কষ্টের জায়গা সম্ভবত রান্নাঘরই। প্রচণ্ড গরমে এবং বাড়ির বিভিন্ন জনের সকল চাহিদা মাথায় রেখে আপানার পরিবারের সকলের জন্য অনেক কষ্ট করে রান্না করে আপানার স্ত্রী তাই তার রান্না করা খাবারের প্রশংসা করুন।
  • তার কথা শুনন- অনেক সময়ই যেটা হয় তা হল আমরা নিজেদের মতামত কেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক স্বামীই আছেন যারা নিজের চিন্তা ভাবনাকে সব কিছু মনে করেন এবং স্ত্রীর ভাবনা তাদের কাছে কোন মূল্য রাখে না। অথচ আপনার স্ত্রী আপনার সংসারের ভাবনা মাথায় রেখেই আপনাকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার কথা শুনুন তবে সব কথাই যে রাখতে হবে এমনটি নয়।
  • বাইরে থাকলে তাকে ফোন করুন – বাহিরে গেলে ঘরের কথা ভুলে গেলে তো চলবে না। আপনার স্ত্রীকে অফিসে পৌঁছালে একটা ফোন দিন এবং দুপুরে খাবার খেয়েছে কিনা খোঁজ নিন। বেশিরভাগ সময়ই বাসায় যে থাকে সেই খোঁজ নেই ফোন করে তবে ব্যাতিক্রমটা আপনার থেকেই না হয় শুরু হোক।

আপনার স্ত্রী আপনার জীবনেরই অংশ এবং সবসময় তাকে আপনার সেরা বন্ধু ভাবুন। আপনি কিছু সামান্য কাজ দ্বারা তার মুখের হাসি আনতে পারেন। তিনি আপনার কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা রাখেন এবং আপনি তার সবটুকু পূরণ করতে না পারলেও অন্তত কিছু করতে পারেন।

Advertisements